

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাবার কারণে ছেলে আত্মহত্যা কারার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ক্যাডেট কলেজ এলাকার হলিদ্রাচালা গ্রামে।
কিশোর মো. জুবায়ের হোসেন (১৪) কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে।
সে মির্জাপুরের গোড়াই রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীতে পড়ে। তার বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার ছবিরা এলাকায় থাকলেও তার বাবা শাহিন মিয়া গোড়াই এলাকায় জমি ক্রয় করে বাসা করেন। সেখানেই বসবাস করেন জুবায়ের,তার মা ও একমাত্র ছোট বোন।
স্থানীয়রা জানান, শাহিন মিয়া কয়েক বছর আগে জুবায়েরের মাকে তালাক দিয়ে আরোও একাধিক বিয়ে করেন। তালাক দেয়ার পরেও জুবায়ের হোসেন তার মা ও বোনকে নিয়ে গোড়াই বাসায় থাকেন। কিন্তু শাহিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চাচ্ছে তাদের ওই বাসা থেকে বের করে দেয়ার জন্য।
এনিয়ে কয়েক দফায় বিচার শালিশ হয় এলাকায় কিন্তু কোন সমাধান আসে নি। পরে শাহিন মিয়া জুবায়েরকে যখনই রাস্তাঘাটে দেখেন তখনই মারধর,নানানভাবে অত্যাচার নির্যাতন,বকাঝকা করতেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গত (৩ নভেম্বর) সোমবার দিনও বকাঝকা বা নির্যাতন করেন।বারবার বাবার নিকট থেকে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে বাসায় গিয়ে ফাঁস দেন জুবায়ের। মায়ের ডাকচিতকারে আসেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে জুবায়েরকে নামিয়ে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ এগারোদিন আইসিইউতে থাকার পরে তার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকার শিন-শিন জাপান হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে দীর্ঘ এক মাস জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১২ টার দিকে সে ইন্তেকাল করেন এবং ঢাকা থেকে গোড়াই এলাকায় নিয়ে আসেন বিকাল ৫ টার দিকে। এক মাসে তার বাবা তার চিকিৎসা বাবদ কোন খরচ বহন করেনি বলেও জানান তার মা।
জুবায়ের হোসেনের লাশ আনার খবর পেলেও ৩ ঘন্টা পরেও আসেনি তার নিষ্ঠুর বাবা শাহিন মিয়া।নিউজ লেখার সময় এখন রাত সাড়ে ৮টা। কিন্তু তার বাবা এখনোও আসেনি।
ছেলে জুবায়েরের শোকে তার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে।কারন তার একমাত্র ছেলে জুবায়ের।জুবায়েরকে শেষবারের মতো দেখতে আসছে তার অসংখ্য বন্ধু।পরিবেশ নিথর হয়ে আসছে।
এই ঘটনায় জুবায়ের হোসেনের মা নাসরিন আক্তার বাদি হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মির্জাপুর থানার এসআই কবির হোসেন বলেন,ঘটনা শুনেছি।অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। তার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
মন্তব্য করুন
