

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিরাজগঞ্জে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার পেছনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সরাসরি সহায়তা করছে নেসকো, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি দেখালেই যেকোনো স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক। তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার বলেন, আমরা কোনো কিছু যাচাই করি না, ছবি আর এনআইডি হলেই সংযোগ দেই। যদিও পরে দাবি করেন, কোনো সংস্থার আপত্তি পেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়,নেসকো কি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে? কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
এদিকে কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের নামে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অফিস দখল করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তেজিত হয়ে বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কিছু কর্মকর্তা ক্লাব বা সমিতির নামে সরকারি ভবন ও জমি দখল করে ব্যবহার করছেন। একইভাবে রেলওয়ের প্রায় ৪০০ একর জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে নেসকো। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেও গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকানগুলোতেও বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের সদস্য নুরুল আমিন (ভিপি সেল) বলেন, সমিতির কিছু দোকানপাট দীর্ঘদিন ধরে চলছে, এসবের জন্য আলাদা কোনো অনুমতি নেওয়া হয় না। তবে সরকারি ভবন দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা নিয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ক্রসবার-৩ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ের জমিতে ঘর তুলে সহজেই বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জে প্রায় ৫৪৫ একর জমির মধ্যে বিপুল অংশ দখল হয়ে গেছে। মাত্র ২ একর জমি থেকে বছরে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও বাকি জমির বড় অংশ অবৈধ দখলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠা সম্ভব হতো না।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ক্রসবার-৩ এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রয়োজনে আবার অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নেসকোর এমন দায়িত্বহীন কার্যক্রমই সিরাজগঞ্জে সরকারি জমি দখল ও অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন