

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা নববর্ষের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে হজমে সহায়তা—সব মিলিয়ে এটি এখন শুধু সংস্কৃতির অংশ নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ একটি খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তা ভাত মূলত একটি ফারমেন্টেড (গাঁজন করা) খাবার, যা শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। পান্তা ভাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
ফারমেন্টেশনের কারণে ভাত সহজে হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল কমাতে সাহায্য করে। পান্তা ভাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং পানিশূন্যতা দূর করে।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। ফারমেন্টেশনের ফলে ভিটামিন বি-১২, আয়রন, ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়।
খাওয়ার আগে সতর্কতা (পুষ্টিবিদের পরামর্শ)
উপকারিতা থাকলেও পান্তা ভাত খাওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি—ভাত ভিজিয়ে রাখার সময় পানি ও পাত্র পরিষ্কার না হলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে।
অতিরিক্ত সময় (২৪ ঘণ্টার বেশি) ভিজিয়ে রাখলে খাবার নষ্ট হতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা সংক্রমণের সমস্যা আছে, তাদের পরিমিত খাওয়া উচিত।
রাস্তার বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি পান্তা ভাত খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।
পহেলা বৈশাখে পান্তা ভাত শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, এটি একটি পুষ্টিকর খাবারও। তবে উপকার পেতে হলে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন
