সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুবির বৈশাখী মেলায় নেপালি শিক্ষার্থীদের স্টল

খুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
খুবির বৈশাখী মেলায় ১ম বার নেপালি শিক্ষার্থীদের স্টল
expand
খুবির বৈশাখী মেলায় ১ম বার নেপালি শিক্ষার্থীদের স্টল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় এবার যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাবার নিয়ে অংশ নিচ্ছেন মেলায়, যা আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

জানা যায়, চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজন হচ্ছে। ১৩ এপ্রিল বাঙালি খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ এপ্রিল মেলা, শোভাযাত্রা ও দিনব্যাপী স্টল থাকবে। উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আমেজ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত মেলায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নেপালি শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন। তাদের স্টলে থাকছে নেপালের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির নানা উপকরণ।

নেপাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছেন আসলাম আনসারি। তিনি কম্পিউটার চাইন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আসলাম বলেন, “আমি একজন নেপালি শিক্ষার্থী হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দেশের একটি অংশ তুলে ধরতে পেরে সত্যিই খুব উচ্ছ্বসিত ও গর্বিতবোধ করছি। স্টলের মাধ্যমে আমাদের পরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয়ে সকলের সাথে ভাগাভাগি করার একটি চেস্টা। বাংলাদেশে থাকা বন্ধুদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে এবং নেপালের সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্য আমাদের উদ্যোগ।

নেপালি স্টলে থাকছে দেশটির জনপ্রিয় খাবার সেল রুটি, মোমোস, ইয়োমারি, মুস্তাংয়ের আলু, ছোইলা, সাদেকো চাউচাউ ও গিলো চটপটি। পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে নেপালের ঐতিহ্যবাহী টুপি, হাতে তৈরি সাংস্কৃতিক সামগ্রী এবং জীবনধারার বিভিন্ন উপস্থাপন।

এমন বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজেদের দেশকে তুলে ধরতে পারা নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের বিষয় বলে জানান আয়োজকরা। তারা সকলকে স্টলে এসে আড্ডা, গল্প আর সংস্কৃতির বিনিময়ে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এদিকে, গত সপ্তাহে -এর অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের উদ্যোগে নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। একাডেমিক ও দৈনন্দিন যোগাযোগে যাতে তারা কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ জন নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় পহেলা বৈশাখে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার আগ্রহ প্রকাশ করে আমার কাছে আসে। পরে আমি ডিএসএ ভবন ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বললে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় এবং তাদের স্টল নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও তাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তরিকতা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট হবে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন