মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে ভ্যানচালকের স্বপ্ন পুড়ল আগুনে, সব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
expand
শরীয়তপুরে ভ্যানচালকের স্বপ্ন পুড়ল আগুনে, সব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের একমাত্র বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায় এই ভ্যানচালক।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের জব্বার আলী আকন কান্দি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শুক্কুর আকন। এ সময় হঠাৎ তার বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেশীরা আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে ঘরটি দাহ্য উপকরণে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিজের একমাত্র আশ্রয়স্থল আগুনে ধ্বংস হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুক্কুর আকন। বহু কষ্টে গড়ে তোলা ঘরটি মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পেশায় ভ্যানচালক শুক্কুর আকন দিন এনে দিন খাওয়া একজন শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মাণ করেছিলেন ছোট্ট একটি বসতঘর। সেই ঘরেই স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার দুই মেয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে এবং ছোট ছেলে এখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুক্কুর আকন বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ঘরটা বানিয়েছিলাম। এখন মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। তিনটা সন্তান নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে থাকব জানি না। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।”

প্রতিবেশী রাসেল আকন বলেন, “শুক্কুর খুবই গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। তার একমাত্র বসতঘরটি আজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নিতে সেখানে গিয়েছি। শুক্কুর আকন অত্যন্ত অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তার একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষদের দ্রুত এগিয়ে আসা জরুরি। কারণ এক নিমিষেই মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে ভ্যানচালক শুক্কুর আকনের পাঁচ সদস্যের পরিবার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন