

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের পরিকল্পনা থাকা বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি ভারতে থাকতে চাইলে বিদেশিদের আগের তুলনায় আরও আগে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা এবং হাসপাতালগুলোর রিপোর্টিং ব্যবস্থায়ও সংশোধন আনা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫–এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভিসাধারীদের ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আগের নিয়মে, যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ভারতে আগমনের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারতেন।
সংশোধিত বিধান শুধু স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীদের জন্য নয়, বরং এমন ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যাদের ভিসার মোট মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও একটানা অবস্থানের অনুমোদিত সময়সীমা ১৮০ দিন। তারা যদি একটানা বা একটি ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তাহলে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর নজরদারি জোরদার করা। একই সঙ্গে বিদেশিদের অবস্থান ও ভিসা শর্ত পালনের বিষয়টি আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নতুন বিধানে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে থাকার অনুমতি শুধুমাত্র বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা হবে। ফলে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় থাকার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হতে পারে।
বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের বিষয়ে আনা হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগে ভারতে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই বিদেশি হলে জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কর্মকর্তাকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল।
নতুন বিধানে বলা হয়েছে, যদি বাবা বা মা একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং সন্তান ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখে, তাহলে জন্মের পর এ ধরনের বাধ্যতামূলক রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজন হবে না।
তবে পরবর্তীতে যদি ওই সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তাহলে বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
এদিকে হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও আবাসিক চিকিৎসা সুবিধা থাকা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে রোগীরা চিকিৎসার পাশাপাশি অবস্থান করতে পারেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টিং ও তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধান হালনাগাদ করা হয়েছে।
ভারত সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হবে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদারকি কার্যক্রম আরও সহজ হবে।
