মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা হত্যায় নাম আসা ডলারের পরিচয় জানা গেল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১১:১২ এএম
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা এবং ডলার (ইনসেটে)
expand
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা এবং ডলার (ইনসেটে)

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার ঘটনায় নতুন করে নাম আসা ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে বারবার তার নাম বলেছেন। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে এ পর্যন্ত ডলার নামের ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ডলারের বাড়ি পল্লবী এলাকায়। যে বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে, তার কয়েকটি বাড়ি পরেই থাকেন তিনি। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ডলার পেশায় অটোরিকশাচালক ও মাদকাসক্ত। একই এলাকায় রিকশার গ্যারেজের মেকানিক হিসেবে কাজ করতো সোহেল রানা। সে সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল।

ডলারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও তাদের পরিবারের অবস্থা ভালো। তাদের বাড়ি রয়েছে। নেশার খরচ জোগাতেই অটোরিকশা চালান। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই ডলারের। নিজের মতো চলাফেরা করেন। মাদকাসক্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও এড়িয়ে চলেন তাকে। রামিসা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত বলে মত তার।

সোমবার মামলার আসামি সোহেল রানা আদালতে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘রামিসাকে ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল ডলার।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেছেন, ‘তদন্ত চলাকালে ডলারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তার প্রমাণ মেলেনি। ডিজিটাল তদন্তেও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগপত্রে তার নাম নেই।’

শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। সোমবার সকালে আদালতে হাজির করা হয় মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এ সময় তিনি আদালতে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরদিন প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন