রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিডনি বিকল ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের কিডনি উপহার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর ডাক হচ্ছে মা। মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন, স্নেহ, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের মূর্ত প্রতীক। শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকার একজন মা বিশ্ব 'মা' দিবসে এক অনন্য ভালোবাসা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগতে থাকা ছেলে নাসিম জাহান আকাশকে নিজের একটি কিডনি উপহার দিয়েছেন তার মা নাসিমা সুলতানা। মায়ের এই আত্মত্যাগের ঘটনায় এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ মাস আগে আকাশের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকেই পরিবারটি ছেলের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পর শেষ পর্যন্ত সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মা নাসিমা সুলতানা। তিনি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আজ রোববার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবসেই ঢাকায় আকাশের কিডনি প্রতিস্থাপন অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। অপারেশনটি করবেন দেশের খ্যাতিমান কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। স্বল্প খরচে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে প্রশংসিত। চিকিৎসাখাতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারও লাভ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী ইমরান হোসাইন জানান, জাজিরা উপজেলা আবারও এক মানবিক ভালোবাসার ইতিহাসের সাক্ষী হলো। সন্তানের জীবন বাঁচাতে আকাশের মা নিজের শরীরের একটি কিডনি দান করেছেন। একজন মা শুধু সন্তানকে জন্মই দেন না, প্রয়োজনে নিজের শরীরের অংশ দিয়েও সন্তানের জীবন রক্ষা করেন। আকাশ হয়তো সারা জীবন মনে রাখবেন, একবার মা তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন, আরেকবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবন উপহার দিলেন। জাজিরার এই ঘটনা শুধু একটি চিকিৎসা নয়, এটি মা সন্তানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর রহমতে আকাশ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, এমন দোয়া সকলের।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জাজিরার একাধিক শিক্ষকদের সাথে তারা বলেন, একজন মা যেমন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, তেমনি একজন শিক্ষকও সমাজ গড়ার কারিগর। নাসিমা সুলতানা একজন প্রধান শিক্ষক হয়েও শুধু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেননি, নিজের সন্তানের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করে মমতা, ত্যাগ ও মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্ব মা দিবসে তার এই আত্মত্যাগ শুধু একজন মায়ের ভালোবাসাই নয়, পুরো শিক্ষক সমাজের জন্যও গর্বের বিষয়। শিক্ষক সমাজ আকাশ ও তার মায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এ বিষয়ে আকাশের বড় বোন বৃষ্টি আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মা দিবসে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপহারটা দিচ্ছে আমার মা। নিজের সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিচ্ছেন তিনি। সবার কাছে আমার মা ও ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই।”

মায়ের এমন অসীম ত্যাগ ও সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, পৃথিবীতে মায়ের ভালোবাসার চেয়ে বড় আর কিছু নেই, আর বিশ্ব মা দিবসে এই ঘটনা যেন সেই সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন