

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে নাটোর হয়ে চলাচলকারী রাজশাহী থেকে বিভিন্ন আন্তঃজেলা রুটের বাস বন্ধ করে দেয়া হয়।
এতে রাজশাহী বাস টার্মিনালে এসে দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালেও রাজশাহী বাস টার্মিনালে গিয়ে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।
অনেকে টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অতিরিক্ত সময় ও খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস নাটোরে আটকে দেন স্থানীয় বাস মালিক-শ্রমিকরা। পরে বাসটির যাত্রীদের নামিয়ে ‘তুহিন পরিবহন’-এর একটি বাসে তুলে দর্শনার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে নাটোরের ‘তুহিন পরিবহন’-এর তিনটি বাস আটক করা হয়। পরে নাটোরে আটক ‘রাব্বি পরিবহনের’ বাসটি ছেড়ে দেয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের তিনটি বাসও ছেড়ে দেয়া হয়।
তবে এরই মধ্যে বিরোধের জেরে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপ রাজশাহী থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাটোরের ওপর দিয়ে যেসব বাস চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে।’
রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত বাস চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এসব রুটে বাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, রাব্বি পরিবহনের একটি বাস কোনও ধরনের অনুমতি ছাড়াই নাটোরে প্রবেশ করায় নাটোরের মালিক-শ্রমিকরা সেটি রাজশাহীতে ফেরত পাঠান। পরে নাটোরের ছয়-সাতটি বাস রাজশাহীতে আটকে দেয়া হয়। এর জেরেই নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, বিরোধ নিরসনে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
এ দিকে মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।


