শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও বড় রদবদল আসছে মন্ত্রিসভায়, আলোচনায় যারা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand

প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং কাজের পরিধি বিবেচনার তাগিদ থেকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বড় হতে যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসেই অথবা আগামী মাসের শুরুতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত সরকারের কার্যক্রমে গতি আনা, কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি ও সরকারের জনপ্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে (প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন)। এছাড়া মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১১ জন উপদেষ্টা রয়েছেন; যাদের মধ্যে ৬ জন মন্ত্রী এবং ৫ জন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পরিবর্তনের আলোচনা সত্যি। তবে চূড়ান্ত তারিখ বা সময় একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন।’

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় ইতোপূর্বে একটি প্রাথমিক রদবদল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সরকার সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এটিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নে’র প্রাথমিক ফল হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে শূন্য পদ পূরণ, দপ্তর পুনর্বণ্টন ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ বলে মনে করছেন।

ষষ্ঠ মাসের রদবদলের পর মন্ত্রিসভার গঠন ও দক্ষতা নিয়ে নতুন কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে একই সঙ্গে পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বহাল রয়েছেন। আবার তুলনামূলক ছোট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রিসভায় যাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকায় নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সিনিয়র ও অভিজ্ঞদের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় এবং নবীনদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করা হতে পারে।

এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান এমপি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন।

অন্যান্য যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি, এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান এমপি, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও মো. আবুল কালাম (চৈতি কালাম) প্রমুখ।

রদবদল হতে পারে যেসব মন্ত্রণালয়ে

আলোচনার কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়: সম্ভাব্য রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী তার নিজ এলাকা বা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং রুক্ষ আচরণ করেন। তার আগের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিতেও এখন পিএস কল রিসিভ করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, নানামুখী বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই বিব্রত বলে জানা গেছে।

সে ক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিন অথবা শিক্ষক নেতা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে। তরুণ ও সুশিক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ত্বরান্বিত করতেই এই পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতির আভাস: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিভিন্ন সেমিনারে ‘অতি কথন’ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের কারণে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষে পড়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য চলাকালেই প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল বিষয়ের বাইরে কথা না বলতে বারণ করেছিলেন। এছাড়া নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত ও পরবর্তীতে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত দপ্তর কমানো হতে পারে কয়েক মন্ত্রীর

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে গতিহীনতা কাটাতে এক মন্ত্রীর অধীনে থাকা একাধিক দপ্তরের বোঝা কমানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে। বর্তমানে ৩টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর কাছ থেকে একটি দপ্তর কমিয়ে তা সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে। সামগ্রিকভাবে তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানো এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে।

অন্যদিকে, দুই দিন আগে রাজধানীর সার্কিট হাউস সড়কে বেপরোয়াভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে আশানুরূপ বা দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এক ধরণের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের দপ্তর পরিবর্তন বা রদবদল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। যদি পরিবর্তন হয়, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাকে যুক্ত করা যায়, তা তিনিই ভালো বোঝেন।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পুনর্গঠন বা রদবদল দল ও সরকারের একটি রুটিন কাজ। প্রয়োজনের তাগিদেই এটি করা হয়। সরকারপ্রধান প্রয়োজন অনুভব করলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সূত্র: এশিয়া পোস্ট

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank