

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ইদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। তবে বড় বড় শপিং মল বা নামি ব্র্যান্ডের শোরুমের চেয়েও এখন বেশি ভিড়ের দেখা মিলছে নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বাজেটের সাথে পছন্দের মিল ঘটাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে রাস্তার ধারের এই অস্থায়ী দোকানগুলো। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি কিনতে পেরে তৃপ্তির হাসি নিয়ে ঘরে ফিরছেন হাজারো মানুষ।
রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, আরডিএ মার্কেটের সামনের রাস্তা, সোনাদীঘি মোড়, কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এই কেনাকাটা। ছোটদের ফ্রক, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট থেকে শুরু করে বড়দের পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস -সবই মিলছে এখানে।
এক সময় ফুটপাতকে কেবল নিম্নবিত্তের বাজার মনে করা হলেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ চাকরিজীবী বা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানে দরদাম করতে। বিক্রেতারা হাঁকডাক দিয়ে ক্রেতাদের ডাকছেন, আর ক্রেতারাও দরদাম করে পোশাক কিনছেন। জামাল সুপার মার্কেটের সামনে ভ্যানগাড়িতে শার্ট বিক্রি করছেন শামসুজ্জোহা। তার হ্যান্ড মাইকে বাজছে- একদাম ৩০০ টাকার শার্ট। ক্রেতারা ভ্যান ঘিরে পছন্দের শার্ট বেছে নিচ্ছেন।
সাহেববাজারে কেনাকাটা করতে একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সোহেল আহমেদ বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে মার্কেটের বড় দোকান ও শপিং মলগুলোতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুটপাতে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখান থেকেই পরিবারের জন্য কেনাকাটা করছি।
দিনমজুর সোলায়মান আলী বলেন, আমার ১০ বছরের বাচ্চার জন্য প্যান্ট দেখছি। এর আগে মার্কেটগুলো ঘুরে এসেছি। বড় দোকানে প্যান্ট ১ হাজার টাকা চাচ্ছে। তারা দামও কমাচ্ছে না। ফুটপাতে আমি সে প্যান্ট ৩০০-৪০০ টাকায় পাচ্ছি। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য ফুটপাতই ভরসা।
তবে ফুটপাতের এসব পণ্য নিয়ে অভিযোগও আছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু পোশাক ধোয়ার পর রঙ উঠে যায় বা কাপড়ের মান ভালো থাকে না। আবার কোনো পোশাকের সেলাই ভালো না। তবু কম দামের কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই এসব পোশাক কিনে থাকেন। এ ছাড়া দরদামও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক দোকানে নির্দিষ্ট দাম থাকলেও বেশির ভাগ জায়গায় দরদাম করে পোশাক কেনা যায়। ক্রেতারা কয়েকটি দোকান ঘুরে দাম তুলনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেন।
ক্রেতাদের ভিড় দেখে খুশি বিক্রেতারাও। জিরোপয়েন্টের ফুটপাতে বিক্রেতা রাসেল আলী বলেন, এ বছর ক্রেতা অনেক বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় সামলাতে হচ্ছে। আমাদের এলাকে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত মানুষরাও আসছেন। তাই বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
ভিড় বাড়ার কারণে সাহেববাজার ও আশেপাশের এলাকায় যানজট কিছুটা বাড়লেও পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে। সাধারণ মানুষের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ নজরদারি রাখছে।
অন্যদিকে, ফুটপাত দখল করে বসানো এসব দোকানের কারণে পথচারিদের চলাচলে কিছুটা ভোগান্তিও তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় ফুটপাত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তবু ইদের আনন্দে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মধ্যেই এখন উৎসবের আমেজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইদের মৌসুম তাদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করেন এই সময়টির জন্য। ইদের আগে কয়েক সপ্তাহের ব্যবসাতেই তাদের বছরের বড় অংশের আয় হয়ে যায়।
সামর্থ্য কম হলেও ইদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন পোশাক কিনতে চান সবাই। আর তাই ফুটপাতজুড়ে এখন জমে উঠেছে ইদের বেচাকেনা। অভিযোগ যতই থাক, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতের এসব বাজারই হয়ে উঠেছে কেনাকাটার প্রধান ভরসাস্থল।
মন্তব্য করুন