

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর পাংশায় আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা–২০২৬ এর ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য এসব শিক্ষার্থী বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না—সে বিষয়ে এখনো কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। সিদ্ধান্তের আশায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা টানা তিন দিন কলেজে আসা–যাওয়া করলেও কোনো সমাধান পাননি।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলেজে উপস্থিত না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এমনকি মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে কোনো সমাধান না পেয়ে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এতে তারা চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এদিকে এইচএসসি ফরম ফিলাপের ফি নিয়েও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কলেজের বিএম শাখার এক শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের জন্য ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন- “আমরা টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা ২৩ জন শিক্ষার্থী একটি সুযোগ চাই। বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে আমরা ভালো ফলাফল করতে পারবো। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. মাসুদ রুমি নাকি শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ বছর বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন অধ্যক্ষ।
অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতায় ২৩ জন শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
মন্তব্য করুন