

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নির্বাচনী অঙ্গিকার বাস্তবায়নে আগামীকাল ফ্যামিলি কার্ডের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামীকাল সকাল ১০ টায় বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠ (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, ‘ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৮৫৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’
পাইলটিং পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ধারণের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫৮৫০৫টি খানার (Household) তথ্য যাচাইয়ে ৪৯৯৯৯টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭৬৫৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনরূপ দুর্নীতি, অনিয়ম বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। স্পর্শবিহীন (Contactless) চিপ সংবলিত এই কার্ডে বার কোডের তথ্যসহ ও এনএফসি (Near Field Communication) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।
কোন একটি পরিবারের ০৫ জন সদস্যের জন্য ০১টি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। তবে যৌথ/একত্রবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা ০৫ এর অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন/২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ২৫.১৫ কোটি টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২.৯২ কোটি টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুত ইত্যাদিতে ব্যয় করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে পরা মানুষের কাছে আগে পৌঁছানোর উদ্যাগ নিয়েছে সরকার। পরিবারের এবং সমাজের মধ্যে একটা সম্মানের দিক বিবেচনা করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতায়নে যারা পিছিয়ে আছে নারী প্রধানের কাছে এই কার্ড পৌছানোর উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতার মাধ্যম এই প্রজেক্টের কাজ করা হয়েছে। এটা বড় সাহসী পদক্ষপদক্ষেপ। এই ধরনের প্রজেক্ট মানুষের মধ্যে কামনা ছিল। এখানে দুর্নীতি কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন