

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন।
অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। শুধু তাই নয়, একমাত্র পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফলও তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়টির এমন চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ছিল প্রায় একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের নথিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন না। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়েছে।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট জনবল ১৩ জন। তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও কেন ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন মাত্র পাস করলেন-এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাস করেছে একজন। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল।’
একমাত্র পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’
১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কীসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিকে দায়ী না করে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।