

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন, মেয়েরা এগিয়ে; ১১ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, কারণ দর্শানোর নোটিশ ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বছর এ বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এর মধ্যে ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেন একজনও পাস করতে পারেনি, তার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, শূন্য পাস করা ১১টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
তদন্তে কোনো প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
ফলাফলে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও মানবিক বিভাগের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। অর্থাৎ এবারও ফলাফলে মেয়েদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশও বিজ্ঞান বিভাগের।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। এ বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৮৫ হাজার ২৩৮ জন। অথচ এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
ফলে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা দিয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও মানবিক বিভাগের ফলাফলকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সেই হিসাবে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।
সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে সর্বোচ্চ ৭১ দশমিক ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বোর্ডে, ৫১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, যশোর বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। এই বৈষম্য কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের ফলাফলেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই শিক্ষা বোর্ডের মূল লক্ষ্য।
এদিকে প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে তার জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
সব মিলিয়ে এবারের এসএসসি ফলাফলে জাতীয় গড়ের চেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড এগিয়ে থাকলেও মানবিক বিভাগের কম পাসের হার এবং ১১টি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাস নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, দুর্বল প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন শিক্ষা বোর্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।