

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরের জিয়ানগরের চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে তিন শিশু সন্তানকে ফেলে নিখোঁজ হওয়া মা মুক্তা বেগম (২৭) অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরে এসেছেন।
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তিনি ফিরে পেয়েছেন তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেলাই মেশিন এবং পেয়েছেন সরকারি সহায়তাও।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে চরম অভাব অনটনের মধ্যে থাকা মুক্তা বেগম তার তিন সন্তান আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। পরে পরিষদের দোতলার বারান্দায় শিশুদের রেখে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিশুদের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে মুক্তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোঃ হাফিজুর রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের তৎপরতায় মুক্তা বেগমকে খুঁজে বের করা হয় এবং সন্তানদের সঙ্গে তার পুনর্মিলন ঘটানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া তার সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়া হয়, যা ছিল তার আয়ের একমাত্র উৎস।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, ‘উপজেলা প্রশাসন থেকে মুক্তা বেগমকে নগদ ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জুর পক্ষ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল ও ২ কেজি চিনি দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
জানা গেছে, মুক্তা বেগমের স্বামী আমান উল্লাহ প্রায় এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। ফলে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন মুক্তা।
জীবন চালানোর জন্য মুক্তা বেগমের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু এক হাজার টাকা দেনার দায়ে সেটিও নিয়ে যান স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলাম। এতে তিনি আরও অসহায় হয়ে পড়েন।
ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘মুক্তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটিও নিয়ে নেয়ায় তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বিষয়টি জানার পরে গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলামকে ফেরৎ দিতে বলি।
কিন্তু তার আগেই তিনি সন্তানদের রেখে পরিষদ থেকে চলে যান। অবশেষে উদ্ধারকৃত সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বুধবার সাড়ে ৮ টার দিকে মুক্তা বেগমকে দেয়া হয়।
স্থা্নীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, স্বামীর অবহেলা, দারিদ্র্য ও পারিবারিক নির্যাতনের কারণে মুক্তা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় এখন তিনি নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন