

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিচারের আশায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল আদালত। সেই আদালত প্রাঙ্গণ দখল করে রেখেছে ঘুষ চক্র। বলছি রাজধানীর শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের কথা। যেখানে যেকোনো সেবা নিতে হলে প্রয়োজন হয় ঘুষের। পিয়ন, পেশকার থেকে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা দায়িত্বরত রেজিস্ট্রারার সবাই ঘুষ গ্রহণ করেন আদালত প্রাঙ্গণেই।
এনপিবি নিউজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান করে। এসময় প্রতিবেদক শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা প্রহরী নজরুলের সাথে পরিচিত হন।
নজরুল এনপিবি নিউজের প্রতিবেদককে বলেন, ট্রাইব্যুনালের যেকোনো সমস্যা সমাধান দিতে পারবেন তিনি। ফৌজদারি মামলা জামিন করানো যাবে। মামলার ধারার ওপর টাকার (ঘুষ) পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
একটি মামলায় জামিনের খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল বলেন, আইনজীবী ফাইলিং নিয়ে ১৫ হাজার টাকায় জামিন করানো যাবে। এসব টাকা খরচের নানান ধরনের খাতের কথাও জানান নজরুল।
ওই মামলার জামিনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা প্রহরী নজরুল ও এম.এল.এস.এস (পিয়ন) জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করে এনপিবি প্রতিবেদক।
এসময় জামিন পরবর্তী বেইল বন্ড ও পরোয়ানা ফেরতের আদেশ স্বাক্ষরের কাগজপত্র দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। নজরুল ও জাহাঙ্গীর মিলে এনপিবি প্রতিবেদককে এজলাস কক্ষে বসিয়ে (তখন এজলাস ফাঁকা ছিলো) নগদ ২ হাজার টাকা নেন এবং ১ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংকের মাধ্যমে করে নেন। টাকা নেয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই কাগজপত্র সম্পন্ন করে দেন নিরাপত্তা প্রহরী ও পিয়ন।
এদিকে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারার মোঃ হেদায়েতুল ইসলামের একটি ফুটেজ এসেছে এনপিবি নিউজের কাছে যেখানে দেখা যায়, নিজ অফিস কক্ষে বসে কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রারার মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম, পিয়ন জাহাঙ্গীর, নিরাপত্তা প্রহরী নজরুল ও স্টেনো টাইপিস্ট আবু নাছেরসহ কয়েকজনের একটি শক্তিশালী চক্র এই ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। এদের মধ্যে টাইপিস্ট আবু নাছের দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই ট্রাইব্যুনালে থেকে নিরব সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে কাজ করছেন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য (২৩৪৩৭) হালিমা আক্তার এ্যানী এনপিবি নিউজকে বলেন, আমি একজন ভুক্তভোগী। রেজিস্ট্রারার হেদায়েতকে টাকা না দিলে হলফনামায়, এফিডেভিট করে দেয় না। ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু ভুল ধরতে থাকে। নজরুল ও জাহাঙ্গীর জাস্টিস স্যারদের নামে প্রোপাগান্ডা (অপতথ্য) ছড়ায়। এরা ওত পেতে থাকে কোন মামলায় জটিলতা রয়েছে কিনা? তখন আসামির সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে। শতভাগ জামিন করতে পারবে বলেও প্রলোভন দেখায় নজরুল ও জাহাঙ্গীর। নবীন আইনজীবীকে হেনস্তা করার অভিযোগও তুলেন এ্যানী।
শ্রম আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন লেবার কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আহমেদ লেলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার কার্যালয়ে যায় প্রতিবেদক। এসময় তিনি এসব বিষয়ে বক্তব্য দিবেন না বলে জানিয়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে এনপিবি নিউজের কাছে রেজিস্ট্রারার মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন কাজ কেউ করতে পারেন। জাহাঙ্গীর ও নজরুলের ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এমন কোনো বিষয় আমার নজরে আসে নাই।
বিষয়টি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সমন্বয় ও আদালত অধিশাখা) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের আদালতগুলো অত্যন্ত ভালোভাবে চলছে। এই পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার মাধ্যমেই শুনলাম সেখানে ঘুষ-দুর্নীতি হয়। আমার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ নেই। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তদন্ত করে সচিব স্যার ব্যবস্থা নেবেন।
মন্তব্য করুন
