

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট পটুয়াখালী-৪ (রাঙ্গাবালী–কলাপাড়া) আসনে খেলাফত মজলিসের নেতা ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
কারণ, ডা. জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ২০১৯ সালে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দোয়াতকলম প্রতীকে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৩ মে ডা. জহির উদ্দিনকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। পরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ১৯ মে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য থাকা অবস্থায় ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন মাত্রার হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তন পরে ডা. জহির উদ্দিন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেন। এর কিছুদিন পরে ইসলামী আন্দোলন ছেড়ে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে।
ভোটের মাঠের চিত্র বলছে, পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসন দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা এবং কুয়াকাটা পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ একাধিক মেগা প্রকল্প থাকায় জাতীয় রাজনীতিতেও এর গুরুত্ব আলাদা।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে একাধিক প্রার্থীর লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ নতুনভাবে সাজাতে শুরু করেছে। জোটের প্রার্থী জহিরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সূচনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর বিপরীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদকে মুঠোফোনে কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
