রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষক কর্মরত, তবুও ক্লাস নেন অফিস সহকারী

দেবীগঞ্জ- বোদা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ক্লাশ নিচ্ছেন অফিস সহকারী। ছবি: এনপিবি নিউজ
expand

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে সোনাহার-মল্লিকাদাহ ইউনিয়নের সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত অফিস সহকারীর নাম গোপাল চন্দ্র রায়। তিনি ২০২০ সাল থেকে সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত রয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনে প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে ছয়টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আটটি ক্লাস নেন। সহকারী শিক্ষকরা ১২ থেকে ১৫টি করে ক্লাস নেন। আর অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়ের নামেও সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস দেওয়া হয়েছে।

রুটিনে দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহের রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পঞ্চম পিরিয়ডে ষষ্ঠ শ্রেণির ধর্ম এবং ষষ্ঠ পিরিয়ডে দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস রয়েছে অফিস সহকারী গোপাল রায়ের। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ পিরিয়ডে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং সপ্তম পিরিয়ডে দশম শ্রেণির ধর্ম বিষয়ের ক্লাস দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম অনুপস্থিত। সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায় দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের সাধারণ বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছেন। তিনজন সহকারী শিক্ষককে শিক্ষক মিলনায়তনে বসে থাকতে দেখা যায়। অন্য সহকারী শিক্ষকরা বিভিন্ন শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছিলেন।

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায় কোথায় আছেন জানতে চাইলে আরিফুল নামে এক অফিস সহায়ক জানান, তিনি দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর কথা অনুযায়ী দশম শ্রেণিতে গিয়ে দেখা যায় অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায় দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

অফিস সহকারী হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ২০২০ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস করাই। আমি মূলত ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণিতে ধর্ম এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নেই।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক থাকার পরও কেন ক্লাস নিচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, এবছরের শুরু থেকেই ক্লাস নিচ্ছি। হেড স্যার রুটিনে ক্লাস দিয়েছে তাই আমি ক্লাস নিচ্ছি।

অফিস সহকারীকে দিয়ে কেন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। হিন্দুধর্মের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় দুই-তিন মাস আগে অবসরে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে অফিস সহকারী ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনজন হিন্দুধর্মের শিক্ষক রয়েছেন- তাঁদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব কি না এবং অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধান বা পরিপত্র রয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নিতে কোনো পরিপত্র লাগে না। আর বাকিরা অন্য ক্লাস নেয়।

এ বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীর বলেন, এ বিষয়ে ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank