

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাবনার ভাঙ্গুড়ার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১৯ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে এবার মাদ্রাসাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।
মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। এর সঙ্গে কর্মচারী আছেন আরও চারজন। এতসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে।
প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট-নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক মাদ্রাসার আশপাশে না থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরে বসবাস করেন। যাতায়াতের এই দূরত্বের অজুহাতে শিক্ষকরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন না বলে স্থানীয়রা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের ঘাটতির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে পড়ছে। তাদের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির ফলাফল আশানুরূপ নয়। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখানে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম আক্ষেপ করে জানান, শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে এসে ঠিকমতো পড়ান না, শুধু মাস শেষে বেতন তোলেন; যার কারণে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা এখন আর তাদের সন্তানদের এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে চান না।
তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এই গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের দায় শিক্ষার্থীদের কাঁধেই চাপিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন। তার দাবি, গ্রামের ছেলেরা পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ার কারণেই মূলত সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
তবে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কেবল শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষকদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলে আসা এই শিক্ষার্থী সংকট ও ফলাফলের ধারাবাহিক বিপর্যয় ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান জানিয়েছেন, কেন এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটল, সে বিষয়টি তারা গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন।