বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘর থেকে যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের কুঠিপাড়া এলাকায় এক নারীর ঘর থেকে আলিফ (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ঘরের বাসিন্দা মোছা. আসমা খাতুন (২৮)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আলিফ রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রোজের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসমা খাতুন ভবানীপুর এলাকার আজমতের মেয়ে এবং রঘুনাথপুর গ্রামের প্রবাসী বাদশাহ মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে আলিফ ওই নারীর বাড়িতে যান। গভীর রাতে খবর পেয়ে আতাইকুলা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে ওই ঘর থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে আসমা খাতুনের স্বামী জীবিকার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যাওয়ার পর আলিফের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতেও সেই সূত্রে আলিফ ওই বাড়িতে যান বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে আলিফকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাতে আসমা খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আলিফ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই নারী এতে রাজি না হওয়ায় আলিফ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন বিষয় এবং চূড়ান্ত নয়।

ঘটনার পর রঘুনাথপুর এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

আতাইকুলা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন