

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক সাবেক ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামের 'সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসা'য় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫) পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই মাদরাসারই সাবেক শিক্ষার্থী, যে বর্তমানে সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই মাদরাসায় থাকাকালীন মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ছাত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ জানুয়ারি শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার জানান, প্রধান শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জনশূন্য ওই মাদরাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান: "মাদরাসাটি বন্ধ থাকায় এবং কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আলাদা অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
