

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢল ও টানা বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৪৫০ বিঘা আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন বিপর্যয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকেরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে গত কয়েকদিন ধরে পানি প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের দাবি, উজানের ঢল হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে আধাপাকা ধান পানির নিচে ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ক্ষতি কমাতে অনেক কৃষক সময়ের আগেই ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক মাঠে নামায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ধান কাটার মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক এলাকায় প্রতি শ্রমিককে দিনে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “১০ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। এর মধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো শ্রমিক পাচ্ছি না। বাকি ধান রক্ষা করতে পারবো কিনা বুঝতে পারছি না।”
আরেক কৃষক রতন আলী জানান, “ধান কাটার খরচ এখন অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি নৌকা ভাড়াও দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে কিনা সেই চিন্তায় আছি।”
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে বিল এলাকায় অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এসব বাঁধ খুব বেশি কার্যকর নয়। প্রবল ঢলের চাপ সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালী না হওয়ায় যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন বলেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানি ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী জানান, গত এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও ঢলে গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের প্রায় ৪৫০ বিঘা আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। তবে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের সুরক্ষায় আগাম টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় উজানের ঢল এখন প্রায় নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই কৃষকেরা একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এখন গোমস্তাপুরের মাঠে কৃষকদের একটাই প্রশ্ন প্রতি মৌসুমে এমন অনিশ্চয়তার ভার আর কতদিন বহন করতে হবে?