শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবি 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ( জবি) আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত নীল দলের কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১০ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পদোন্নতি বোর্ডের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বোর্ডে ১২টি বিভাগের মোট ১৫ জন শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় থাকা কয়েকজন শিক্ষক ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনবিরোধী অবস্থানে ছিলেন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।

পদোন্নতির আলোচনায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. উম্মে হাবিবা খাতুন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর ড. মো. মনির হোসেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা হাসান, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের মধ্যে তিনজন সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক এবং পাঁচজন সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষককে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদে পদোন্নতির বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের সঙ্গে নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অর্থনীতি বিভাগের ড. আইনুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের ড. মো. আবুল হোসেন, রসায়ন বিভাগের ড. একেএম লুৎফর রহমান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পরে প্রশাসন পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পদোন্নতির আলোচনায় থাকা কয়েকজন শিক্ষক অতীতে আওয়ামীপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের বিদ্যুৎ কুমার বালো এবং দর্শন বিভাগের সাজিয়া আফরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তালিকাভুক্ত কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী পোস্ট দিয়েছিলেন এবং ৪ আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের পক্ষেও বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ফার্মেসি বিভাগের ড. মনির হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অন্যদিকে দর্শন বিভাগের শিক্ষক সাজিয়া আফরিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রী হলের হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একাধিক শিক্ষক পদোন্নতি ও নিয়োগে বঞ্চিত হয়েছেন। মিটিং শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বনির্ধারিত পদোন্নতি ও নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সম্ভাব্য পদোন্নতির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, “উপাচার্য রইস উদ্দিন স্যার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি আজ উপাচার্যের দায়িত্বে এসেছেন। কিন্তু এখন যদি আন্দোলনবিরোধী অবস্থানে থাকা শিক্ষকদেরই পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও একই ধরনের রাজনৈতিক বলয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তারা আরও বলেন,“অতীতে যেভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যোগ্য শিক্ষকরা বঞ্চিত হয়েছেন, এখন একই ধরনের চর্চা ফিরে আসলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অশনিসংকেত হবে।”

এ বিষয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “আমরা শিক্ষক সমিতি হিসেবে বিষয়টি আগে থেকে জানতাম না। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এখানে প্রশাসন নিজেদের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরোধিতা করব। জুলাই আন্দোলনের সময় তারা সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।”

পদোন্নতি বোর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা সারমিন বলেন, “এখনো বোর্ড বসেনি। বোর্ড বসার পরই সিদ্ধান্ত হবে কাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বা হবে না। কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সেটিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন