শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, স্বামী পলাতক

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৫ পিএম
ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা
expand
ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

নরসিংদীতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদ মিয়া (৪৪) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

এই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধরা হলেন, ফরিদ মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৩৮), তাঁদের দুই ছেলে আরাফাত (১৫) ও তাওহীদ (৭), রিনার বোন সালমা বেগম (৩৪), তার ছেলে ফরহাদ (১২) এবং প্রতিবেশী জিহাদ মিয়া (২৪)। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদ মিয়ার সঙ্গে স্ত্রী রিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রিনা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন ফরিদ।

গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে টিনশেড ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় রিনার বোন ও ভাতিজাও আগুনে দগ্ধ হন। আগুন লাগিয়ে ঘরের বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে যান ফরিদ।

পরে স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে দগ্ধদের উদ্ধার করে ৯৯৯-এ ফোন দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঁচজনকে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

নরসিংদী সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। অভিযুক্ত ফরিদ মিয়া পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ফরিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন