

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে অপারেশন, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে নরসিংদী শহরের ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাদার কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতেই অপারেশন পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের দুটি অপারেশন লাইট অকার্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রোগীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযানে আরও জানা যায়, হাসপাতালের লাইসেন্স, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স এবং ট্রেড লাইসেন্স গত তিন বছর ধরে নবায়ন করা হয়নি। আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষের সামনে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও প্রদর্শন করা হয়নি।
এছাড়া ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দুইজনের মধ্যে একজনের শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদপত্র কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এক্স-রে কক্ষে বিকিরণ প্রতিরোধী লিড (Lead) সংবলিত দরজা না থাকাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘাটতি ধরা পড়ে। তদন্তে আরও জানা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ফি নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। একই সঙ্গে সব অনিয়ম দ্রুত সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে ভবিষ্যতে আইন অমান্য করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নরসিংদীর প্রতিনিধি ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন আনসার সদস্যরা।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা বলেন, "লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে অপারেশন কিংবা রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নামে মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হবে এবং আইন অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।"


