

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে মিছিলের পর মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কাশীপুর এনসিপির উদ্যোগে নগরীর দেওভোগ বাংলাবাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কাশীপুর হাটখোলা মাঠের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার ও মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “কাশীপুরে ডাকাত শহীদ গ্যাং একটি বড় সমস্যা।” তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ জুলাই) কাশীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন শহীদের অনুসারীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রশক্তি মহানগরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজকের পর থেকে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে, আপনারা থানায় অভিযোগ করবেন। যদি তারা অভিযোগ গ্রহণ না করে, আমাদের জানাবেন। আমরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেব। প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারে বা অপরাগতা দেখায়, তাহলে যেভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি, সেভাবেই এই কাশীপুর থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ফতুল্লার বিভিন্ন জায়গায় মাদক কারবারিরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। এবং তারা কাদের সিন্ডিকেটে এই ব্যবসা করছে, সে বিষয়ও আপনারা জানেন।” প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সেই তালিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাশীপুর এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। আমরা চাই, আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনারা পিছিয়ে থাকলে শুধু এমপি ও এনসিপির পক্ষে একটি নিরাপদ কাশীপুর গড়া সম্ভব নয়। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে এগিয়ে আসবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই কাশীপুরে কোনো মাদক সিন্ডিকেট ও মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করছি। প্রশাসনের কাছেও তালিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা সুযোগ দিচ্ছি। আপনারা ভালো হয়ে যান। তা না হলে এনসিপি যদি চোখ ঘুরিয়ে তাকায়, আপনাদের বিনাশ করে দেবে।”
মাসদাইরে সিজান হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা মাসদাইরে দেখেছেন। যদি পুলিশ প্রশাসন আপনাকে ধরে, তাহলে আপনি জেলের মাধ্যমে একটি নিরাপদ জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। আর যদি ভালো না হন, তাহলে কাশীপুরবাসী ধরে ফেললে জীবিত ফিরে আসতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি না।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির সদস্যসচিব জোবায়ের হোসেন (তামজিদ), সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরের জাবেদ আলম, ফতুল্লা থানা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল ইসলাম ফাহিম, যুগ্ম সদস্যসচিব মেহেদি হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, মুমিন আহমেদ ইমু, সাজ্জাদসহ কাশীপুর ইউনিয়ন এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ।