

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এটিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এখানে এক হাজারের অধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এ উপজেলা শিল্পাঞ্চল হিসেবেও পরিচিত। পূর্বাচল উপ-শহর এটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবু আক্ষেপের যেন শেষ নেই উপজেলার বাসিন্দাদের।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরেরও এ উপজেলা থেকে জেলা শহরের যাওয়ার জন্য চালু করা হয়নি কোন গণপরিবহণ।
রূপগঞ্জ উপজেলার ১০ লাখ বাসিন্দার চলাচলের জন্য কোনো গণপরিবহন বা বাস-মিনিবাস নেই। এ উপজেলা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সঙ্গে সরাসরি কোন গণপরিবহন নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন দশায় চরম দুর্ভোগে এ উপজেলায় কর্মরত ও অবস্থানরত কর্মজীবী মানুষ।
উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। মানুষ আধুনিকায়নের সাথে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা করলেও এখানে যাত্রীবাহী বাসের চাকা ঘোরে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক দখল করে চলে ভটভটি, নসিমন, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান। বাস চলাচল না করায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এসব অবৈধ যানবাহনেই চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় দশ লাখ মানুষকে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানিও।
উপজেলায় অনুমোদিত রিকশার সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। ইজিবাইকের সংখ্যা সাত হাজারের ওপর। যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। প্যাডেলটানা রিকশাকে পেছনে হটিয়ে দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। ব্যাটারিচালিত রিকশাকে টেক্কা দিচ্ছে ইজিবাইক। যত্রতত্র থামছে বাহনগুলো, নামছে যাত্রীরা। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কাও থাকছে।
উপজেলাজুড়ে রাস্তাঘাটগুলো বেহাল, কোথাও খোয়া ওঠা, কোথাও খানাখন্দে ভরা। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বাস-মিনিবাস না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও চাকরিজীবীরা।
সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুড়াপাড়া বিশ^বিদ্যালয় কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও তাঁদের জন্য নেই কোন বাস। বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, গণপরিবহন থাকলে শিক্ষাথীদের অনেক উপকার হতো। তাদের অনেক কষ্ট করে আসা-যাওয়া করতে হয়।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা তুষার আহমেদ বলেন, রূপগঞ্জে লোকসংখ্যা বেড়েছে। অতএব বাস সার্ভিস হওয়া জরুরি। তবে তার আগে রাস্তাঘাটগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। রূপগঞ্জে মানুষকে জেলা শহরে যেতে হলে গাড়ি বদল করে করে যেতে হয়। যা অনেকটা ভোগান্তির সাধারণ মানুষের জন্য। স্বাধীনতার এতো বছরেও গণপরিবহণ চালু না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক।
শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাকে রূপগঞ্জ থেকে প্রতিদিন নারায়ণঞ্জে যেতে হয়। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, রাজধানীর সাথে সরাসরি কোন বাস সেবা চালু করতে পারেনি। রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোন কালেই কোন গণপরিবহন চালু ছিল না। যে কারণে জেলামুখী কর্মজীবী যাত্রী সাধারণকে ভেঙে ভেঙে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিজার্ভ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়। এতে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগছে।
নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবুল বাশার রুবেল বলেন, তিনি জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। তাদের ভেঙ্গে ভেঙ্গে অটো-সিএনজিতে করে নারায়ণগঞ্জে যেতে হয়। ভাড়াও বেশি গুণতে হয়।
খলিলুর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের উপজেলায় বাস চলাচল না করাটা লজ্জাজনক। যে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, সে এলাকা উন্নত বলাটা কতটুকু যৌক্তিক।
রূপগঞ্জের বরপা এলাকার ব্যবসায়ী শরীফ হোসে বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থ্যান হবে। রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি কোন গণপরিবহণ না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে নারায়ণগঞ্জের অফিস আদালতের কাজ করতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন