

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নওগাঁর রাণীনগরে চলতি ইরি/বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশকসহ শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান চাষের খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং ফলন কম হওয়ায় শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি অধিকাংশ মিলারের গুদামে এলসির চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় ধান কেনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম। ফলে এখনই ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া আবহাওয়া খারাপ হলে ধানের দাম আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার রাণীনগরে ১৮৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিরাশাইল, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯২, কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।
ইতোমধ্যে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। যদিও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফলন ভালো হচ্ছে, তবে কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে এবার ধানের ফলন কম হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।
উপজেলার আবাদপুকুর এলাকার মরুপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দীন হেলু মন্ডল জানান, তিনি নিজর ও বর্গা মিলিয়ে মোট ৪৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় হালচাষ, রোপণ, কাটা-মাড়াই এবং বর্গা ভাড়াসহ প্রায় ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।ইতোমধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। বুধবার আবাদপুকুর বাজারে তিনি প্রতি মণ ধান সর্বোচ্চ ১০৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এতে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কালীগ্রাম বড়িয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, তিনি ১৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তবে নানা কারণে ফলন কম হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ বিঘা জমির ধান কেটে প্রতি বিঘায় ২০-২২ মণ ফলন পেয়েছেন।
কসবাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ১৬ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন এবং বুধবার থেকে ধান কাটা শুরু করেছেন। তার মতে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় প্রায় ৩-৪ মণ ধান কম ফলন হবে। গড়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ মণ ফলন হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। ফলন ও দাম—দুটোই কম হওয়ায় কৃষকরা চরম লোকসানে পড়েছেন। তিনি কৃষকদের স্বার্থে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আবাদপুকুর বাজারের ধান-চাল আড়ৎদার লেবু হোসেন বলেন, বুধবার হাটে প্রায় ৪৬৭ মণ ধান ক্রয় করা হয়েছে| প্রতিমণ ধান ১০২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০৫০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।
তিনি জানান, মিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত এলসি চাল থাকায় ধান কেনার আগ্রহ কম, ফলে দাম বাড়ছে না। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বর্তমান দামে লেনদেন চলতে পারে, তবে আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। জাতভেদে প্রতি বিঘায় ২৩-২৬ মণ ফলন হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হবে এবং ১৫-২০ দিনের মধ্যে তা শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন