

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২৭ বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী আমির হোসেন তালুকদার (৬২)। তবে তার এ ফিরে আসা আনন্দের পাশাপাশি বেদনারও। কারণ তিনি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন, পরিবারের কাউকে চিনতে পারছেন না।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় বাতিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান আমির হোসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও পরিবারের সদস্যরা তাকে গ্রহণ করেন।
দুই যুগেরও বেশি সময় পর বাবাকে ফিরে পেয়ে বিমানবন্দরেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছেলে বাবু তালুকদারসহ স্বজনরা। তবে সে আনন্দে মিশে আছে গভীর কষ্টও, কারণ আমির হোসেন এখন আর নিজের পরিবারকেই চিনতে পারছেন না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। সেখানে তিনি রংয়ের কাজ করতেন এবং প্রথম কয়েক বছর পরিবারের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। কিন্তু তিন বছর পর তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নিয়েছিল, তিনি আর বেঁচে নেই।
ছেলে বাবু তালুকদার আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরলেন বাবা। আমরা তাকে চিনতে পারলেও তিনি আমাদেরকে চিনতে পারছেন না।
ব্র্যাক সূ্ত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি টিনের ঘরে তাকে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করতে দেখতে পান। তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস ও পেনাংপ্রবাসী দীপুর উদ্যোগে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর দেশে থাকা পরিবার ওই ভিডিও ও ছবি দেখে আমির হোসেনকে শনাক্ত করে এবং ব্র্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।
ব্র্যাক জানিয়েছে, আমির হোসেন তালুকদারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
