

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহে জুলাই যোদ্ধাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীমের মালিকানাধীন ইউনাইটেড পরিবহন বন্ধ রাখার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর থেকে নগরীর শিকারিকান্দা বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। কোথাও কোনো গাড়ি নেই। একটা রোগী নিয়ে ঢাকায় যাব, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছি—যাত্রা শুরু করতে পারছি না।”
ঢাকাগামী আরেক যাত্রী রফিকুল মিয়া বলেন, “শিকারিকান্দা বাইপাসে গাড়ি থেমে আছে অনেকক্ষণ ধরে। গরমে বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে। কে কার জন্য অবরোধ দিচ্ছে আমরা বুঝি না, কিন্তু ভোগান্তি আমাদেরই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ জেলা সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, “গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা আবু রায়হান শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাস টার্মিনালে আসেন। সেখানে ইউনাইটেড পরিবহনের শ্রমিকরা তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে কটূক্তি করেন। পরে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। আমরা বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ জানাই এবং আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীমের মালিকানাধীন ইউনাইটেড পরিবহন বন্ধের দাবি তুলি।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল থেকে ইউনাইটেড পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি'র নেতারা।
অন্যদিকে শিকারিকান্দা বাইপাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই জুলাই যোদ্ধা ইউনাইটেড পরিবহনের কাউন্টারে এসে ঢাকায় যাওয়ার জন্য সামনের গাড়িতে উঠতে চান। শ্রমিকরা তাঁকে পরের গাড়িতে যেতে বলেন—এ নিয়েই ভুল বোঝাবুঝি হয়। এরপর একপক্ষ শুধু ইউনাইটেড পরিবহন বন্ধের দাবি জানায়, কিন্তু এতে বহু শ্রমিকের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন।”
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের লোকজন কাজ করছে। দুই পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুতই মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।”
মন্তব্য করুন