

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহের ভালুকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুটি মিনিট্রাকসহ লুট হওয়া ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১৬ দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মানিকগঞ্জ ও কুমিল্লা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করে গত সোমবার রাতে আইনি প্রক্রিয়ায় মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ মে রাতে নেত্রকোনোর পূর্বধলা উপজেলার লাউখাই এলাকা থেকে খামার মালিক আরিফুর রহমান ৭টি ষাঁড় গরু নিয়ে দুটি মিনিট্রাকে করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া স্কয়ার মাস্টারবাড়ি আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন রওজাতুল কুরআন মাদরাসার সামনে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের হায়েস মাইক্রোবাস থেকে টর্চলাইটের মাধ্যমে ট্রাক দুটিকে থামার সিগন্যাল দেওয়া হয়।
ট্রাক দুটি সড়কের পাশে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাস থেকে ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল নেমে আসে। তাদের মধ্যে একজনের পরনে ছিল পুলিশের পোশাক এবং অন্যজনের পরনে ছিল ডিবি পুলিশের কটি। এ সময় তাদের হাতে ওয়্যারলেস সেট ও হাতকড়াও ছিল।
খামার মালিক আরিফুর রহমান জানান, ডাকাত দলটি ওয়্যারলেস ও হাতকড়া দেখিয়ে গরুগুলো চোরাই বলে তাদের এবং চালকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে এবং গ্রেফতারের ভয় দেখায়।
একপর্যায়ে গরু চোরের অপবাদ দিয়ে মালিক, কর্মচারী ও পিকআপ চালকদের চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে তারা। পরে মাইক্রোবাসে তুলে মারধর করে তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরদিন ভোরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের একটি জঙ্গলে তাদের ফেলে রেখে চলে যায় চক্রটি। পরে চোখ-হাতের বাঁধন খুলে তারা জঙ্গল থেকে বের হয়ে সড়কে আসেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভালুকায় এসে বাদী হয়ে ডাকাতির মামলা করেন।
আরিফুর রহমান আরও দাবি করেন, ওই হায়েস মাইক্রোবাসটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকেই তাদের অনুসরণ করছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ দাস তদন্তের প্রক্রিয়া তুলে ধরে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভালুকা, গাজীপুর, রাজধানীর উত্তরা, গাবতলী ও সাভারের হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।
এরপর গরুর মালিককে সাথে নিয়ে গোপনে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে একটি খালি ট্রাক জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে সিংগাইর থানার চারিগ্রাম চৌরাস্তা থেকে সন্দেহভাজন এক নারীকে আটক করা হয় এবং তার বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় দুটি ষাঁড় গরু।
গোবিন্দ দাস আরও জানান, আটক ওই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই থানা এলাকা থেকে অপর একটি পিকআপ এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানা এলাকা থেকে বাকি পাঁচটি ষাঁড় গরু উদ্ধার করা হয়।
তবে ওই নারীর স্বামী নাজিম উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই এই চক্রের সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তা পুরোপুরি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
এ সম্পর্কে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, গরুর মালিক মামলা দায়ের করার পর গত ১৬ দিনে থানার একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়। সব কটি গরু ও পিকআপ দুটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ায় মালিকের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই ওসি।