

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখিরকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার রাতে ওই মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। তবে ফজরের নামাজের আগেই তীব্র ভাঙনে মসজিদটির পুরো ভবন নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, পূর্বরাখিরকান্দি আবু হানিফা জামে মসজিদটি নদীর খুব কাছাকাছি ছিল। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদসংলগ্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে নদীভাঙনের শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে ছুটে আসেন। এ সময় মসজিদের কিছু মালামাল ও সিলিং ফ্যান সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটির বড় অংশ নদীতে চলে যায়। পরে পুরো মসজিদটি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।
মাদানি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সোহেল বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদ্রাসার ভেতরে ঘুমিয়েছিলাম। পরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।’
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পদ্মায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এতে কয়েক দিন ধরে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাখিরকান্দি ও পূর্বরাখিরকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার তীরে তীব্র ভাঙন চলছে। নদীর স্রোতে আগে ফেলা বালুর বস্তার বিভিন্ন অংশও ধসে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু মসজিদ নয়, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় বহু বাড়িঘর ও স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের কবলে পড়েছে মাদানী কমপ্লেক্সও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পুরো জমিই ইতিমধ্যে নদীতে চলে গেছে।
মাদানী কমপ্লেক্সের সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে। মাদ্রাসার বিস্তীর্ণ জমিও ইতিমধ্যে নদীতে চলে গেছে।
মসজিদটি নদীতে বিলীন হওয়ার খবর পেয়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশ্রাফী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মোস্তফা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেন। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশ্রাফী বলেন, ‘আমি এর আগে শিলই ইউনিয়ন পরিদর্শনে এসেছিলাম। তখন এখানে মসজিদটি ছিল। আজ সেই মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সংবাদে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। নদীভাঙনে মানুষের বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আপাতত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে এ এলাকার নদীভাঙন স্থায়ীভাবে প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। এ সময় বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ উদ্বোধন করা হয়।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে।’ নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী সুরক্ষাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘পদ্মায় স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে সাময়িক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।’
পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

