

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মা ও মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতদের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে আলী হোসেন (২৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন।
শুক্রবার ( ৩০ জানুয়ারি) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল টানা ১০ দিন অনুসন্ধান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই নিহতদের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘদিন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও তাঁর সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে বাড়ির মালিকের কাছেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না। পরে বিভিন্ন সূত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পর আসামি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো বাগানে, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে তিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করতেন।
তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা–কুমিল্লা মহাসড়কের দাউদকান্দি ব্রিজসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি পুলিশকে জানান, মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার দিন সকালে আমেনা বেগম মোবাইলে ভিডিও দেখছিলেন। শব্দ কমাতে বলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় মরিয়ম মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং তাঁর মধ্যে সহিংস আচরণের প্রবণতা ছিল। ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
