

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে ফলে কৃষিক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার কাঁচামরিচ, ধান, ভুট্টা, বাঙ্গি, পাট, তিলসহ গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেতে পানি জমে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হবার পথে। অনেক কৃষক বলছেন, এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। তবে এখনো ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
রোববার (১০ মে) সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতেই পানি নিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফসল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কাঁচামরিচের গাছ মরে গেছে, কোথাও মিষ্টিকুমড়ো তোলার আগেই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেক নিচু জমির পাটক্ষেত পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কাঁচামরিচ, ধান ও তিলের আবাদ।
শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের কৃষক রজ্জব আলী বলেন, কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। মরিচ ক্ষেতে পানি জমলে মেশিন দিয়ে পানি সেঁচে বের করি, কিন্তু আবার বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি জমে যায়। এতে মরিচ গাছ হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। আগে পেঁয়াজে লোকসান, এখন মরিচও শেষ। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাবে।
হরিরামপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ বলেন, আমার নিচু জমিতে বছরে একটাই ফসল হয়, সেটা পাট। এবার সেই পাটও টানা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।
একই উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের কৃষক তুষার বলেন, অনেক আশা নিয়ে বাঙ্গি চাষ করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। বাঙ্গিগুলো পানিতে ভেসে নষ্ট হচ্ছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক বৃষ্টিতেই শেষ হয়ে গেল।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ সংগ্রহ শেষে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।