

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীতে থেমে নেই ইলিশ শিকার।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলে রাতদিন জাল ফেলছে নদীতে, আর ধরা পড়া মাছ বিক্রি হচ্ছে নদীর পাড়েই গড়ে ওঠা অস্থায়ী হাটে।
বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ে যেন এখন ‘ইলিশের হাট’। ক্রেতারাও আসছেন দূরদূরান্ত থেকে সস্তায় ইলিশ কেনার আশায়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জনবল স্বল্পতা ও জেলেদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে অভিযানে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। কখনও কখনও হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আট দিনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ ১৪ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় ২৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড এবং ২৩ জনকে ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা পাড়ে অস্থায়ী বাজার বসেছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে ট্রলার ভিড়ছে একের পর এক। জেলেরা ধরা মাছ বিক্রি করছেন প্রকাশ্যে। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, আর ছোট ইলিশ মিলছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
বাঁশকান্দি এলাকা থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা জুবায়ের রহমান বলেন, “এখানকার ইলিশ তুলনামূলক সস্তা। বাজারে যে দামে বিক্রি হয়, এখানে প্রায় অর্ধেক দামে পাওয়া যায়, তাই এসেছি।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজিরসূরা, হিরাখাঁর বাজারসহ কয়েকটি স্থানে চলে এ অবৈধ বেচাকেনা। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই খবর পৌঁছে যায় বিক্রেতাদের কাছে। তখন জেলেরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে নদীর মাঝখানে বা কাশবনে লুকিয়ে পড়ে।
কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নদীতে না গেলে সংসার চলে না। পরিবারের সবাই না খেয়ে থাকবে। তাই ঝুঁকি নিয়েই মাছ ধরতে আসি। মাছও ভালো ধরা পড়ছে, বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে মাঝে মাঝে অভিযান হলে কম দামে বিক্রি করতে হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে। কোথাও কেউ গোপনে জাল ফেললে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জনবল কম থাকায় শতভাগ সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পদ্মাপাড়ের হাটগুলোতে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।
মন্তব্য করুন