

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কোণা পোড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত কাগুজে নোটের আধিক্য মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নীতিমালা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব থাকায় বৈধ কিন্তু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নোট নিয়েও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে চরম অসন্তোষ ও অপ্রয়োজনীয় বাকবিতণ্ডা। অন্যদিকে, এই কোণা পোড়া নোটের পেছনে মাদক সেবনের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে শিবচর বাজার, পাঁচ্চর বাজার ও চান্দেরচর ও শেখপুর বাজারসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ১০ ও ২০ টাকার নোটের পাশাপাশি এখন ৫০,১০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার কোণা পোড়া নোটও বাজারে ঘুরছে। এসব নোট হাতবদলের সময় একপক্ষ নিতে চাইলে অন্যপক্ষ অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
শিবচর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বকুল সাহা বলেন, “দিন শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায় ক্যাশবাক্সে কয়েকটি কোণা পোড়া নোট জমেছে। ক্রেতার কাছ থেকে নিতে বাধ্য হলেও পরে সেই নোট দিয়ে আর লেনদেন করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ক্ষতির বোঝা ব্যবসায়ীকেই বহন করতে হয়।”
ক্লিনিক ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, “অনেক রোগী বা তাদের স্বজন না বুঝেই ক্ষতিগ্রস্ত নোট দিয়ে যান। পরে সেই নোট নিয়ে ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না কোন নোট গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়।”
ঔষধ ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম সম্পর্কে সচেতনতার অভাবই সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় টেপ লাগানো বৈধ নোটও মানুষ নিতে চান না। এতে প্রতিদিন অকারণে তর্ক-বিতর্ক ও ঝামেলা সৃষ্টি হচ্ছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী—কোনো নোট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া হলেও সেটির সিরিয়াল নম্বর, জলছাপ ও নিরাপত্তা সুতা যদি অক্ষত থাকে এবং সঠিকভাবে জোড়া দেওয়া থাকে, তবে তা বিনিময়যোগ্য। কিন্তু স্থানীয় বাজারগুলোতে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সচেতনতার অভাবে অনেক সময় সাধারণ টেপ লাগানো বৈধ নোটও ফিরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
অনুসন্ধানে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ইয়াবা বা হেরোইন সেবনের সময় কাগুজে নোট মুড়িয়ে পাইপ হিসেবে ব্যবহার করার একটি প্রবণতা রয়েছে। লাইটারের আগুনের সংস্পর্শে এসে এসব নোটের কোণা পুড়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা কৌশলে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও বাজারের সব কোণা পোড়া নোট একই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, “শিবচরে কেউ মাদক কারবারির তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করব।”
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”