বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে গুলি ছুড়ে বাংলাদেশিদের চার নৌকা নিয়ে গেল বিএসএফ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
সীমান্তে গুলি ছুড়ে বাংলাদেশিদের চার নৌকা নিয়ে গেল বিএসএফ
expand

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ধরলা নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। এ সময় নদী থেকে বাংলাদেশিদের চারটি নৌকা বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর সীমান্তসংলগ্ন ধরলা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪২-এর ৪ থেকে ৫ নম্বর উপপিলারসংলগ্ন ধরলা নদীর বাংলাদেশি অংশে কয়েকজন বাংলাদেশি অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছোট নৌকায় করে বালু ও পাথর উত্তোলন করছিলেন। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তের পানিশালা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সেখানে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। এ সময় দুই সদস্য অস্ত্র উঁচিয়ে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে কেউ হতাহত না হলেও গুলির শব্দে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পরে বিএসএফ সদস্যরা নদীতে নেমে বাংলাদেশিদের বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশিরা সীমান্ত অতিক্রম না করলেও বিএসএফ সদস্যরা নদীর প্রায় ১৫ গজ বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে গুলি ছোড়েন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি নাগরিকরা সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বরমতল নামক এলাকায় গেলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। পরে চারটি নৌকা নদীর পাড় থেকে বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। একই সঙ্গে বিএসএফের গুলি ছোড়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবি।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশে বুড়িমারী ও চ্যাংড়াবান্ধা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের গুলি ছোড়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম।

এদিকে, ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীরা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেননি। ঘটনার সময় অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএসএফ সদস্যরা নদীতে নেমে কয়েকটি নৌকায় আঘাত করছেন এবং পরে কয়েকটি নৌকা নিয়ে যাচ্ছেন।

বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফ গুলি ছোড়ায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ব্যাপারে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে শুনেছি। আমি বাইরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না; জেনে জানাব।ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank