শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রধান শিক্ষকের সংসার, তদন্ত শুরু 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম
বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রধান শিক্ষকের সংসার
expand
বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রধান শিক্ষকের সংসার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সহর উদ্দিন সরকার সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের কক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সংসার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার দিনভর তদন্ত করেন জেলা শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) রুখসানা পারভিন। এ সময় বিদ্যালয়টির শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন তিনি।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলা সদরে ১৯৪৬ সালে সহর উদ্দিন সরকার উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যা গত ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় করন করা হয়। প্রায় ৯ একর কৃষিজ ও কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা সম্পদের এ প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকার উপরে।

গত ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ইমরান আলী। এরপর প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম প্রধান গত ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহন করলে সহকারী শিক্ষক ইমরান আলী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটির কৃষিজ ও বাণিজ্যিক জমি ভবন থেকে আদায় করা অর্থ সরকারী কোষাগাড়ে জমা না করে প্রতিষ্ঠানের বিএম শাখার(বে সরকারী) একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করে নিজের একক স্বাক্ষরে উত্তোলন করেন।

সরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যায় পরিচালনা বিধির ২ এর ৪ এবং ৫ নং উপধারায় ৩ সদস্যের একটি অভ্যান্তরীন অডিট কমিটি করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও এ প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত কোন কমিটি করা হয়নি। যার কারনে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইমরান আলী একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

শুধু তাই নয়, ইমরান আলী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হলেও নিজে নিজেকে ভারমুক্তি করে সরাসরি প্রধান শিক্ষক দাবি করছেন। প্রধান শিক্ষকদের অনার বোর্ডেও ভারপ্রাপ্ত শব্দটি লিখেননি তিনি। যা নিয়ে চলছে নানান সমালোচনা।

বিদ্যালয়টির একটি পুরাতন ভবন সংস্কার করতে ঠিকাদার নিয়োগ করে শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর। সেই সংস্কার কাজে ঠিকাদারকে বাগিয়ে বিদ্যালয়ের একটি রুমে করেছেন নিজের আবাসন ব্যবস্থা। সেখানে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে রুমটি সাজিয়ে নিয়ে বসবাস করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইমরান আলী। সরকারী ভাবন বা আবাসনে বসবাস করলে বিধিমত বাড়িভাড়া কর্তন করার নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।

একই সাথে সরকারী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে শিক্ষর্থী অভিভাবকদের। সাম্প্রতি সময় ১৬৭ জন শিক্ষার্থীর ৮ ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়েও জন প্রতি প্রায় ৫৫ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পুরনের সময় জোরপুর্বক জনপ্রতি দুই হাজার টাকা কোচিং ফি আদায় করা হয়।

কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলার কারনে বিদ্যালয় মাঠটি গো-চারন ভুমিতে পরিনত হয়েছে। পুরো মাঠ জুড়ে গরু ছাগলের অবাদ বিচরনে শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে হেনস্থাসহ করা হয় হয়রানী। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে "সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের কক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সংসার!" শিরোনামে গত ১৩ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন অনলাইনে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

খবর প্রকাশের পরে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয় তদন্ত শুরু করেন। এ দিকে তদন্ত কমিটি আসার খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষকের অনার বোর্ড থেকে ইমরান আলীর নাম মুছে দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) রুখসানা পারভীন বলেন, তদন্ত শেষ করে কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। একই সাথে গণমাধ্যমে তথ্য জানানো হবে। আপাতত তদন্ত চলছে তাই কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন