

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম(১৮) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়েছে স্বামীর লোকজন।
সোমবার(১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠানে লাশ ফেলে যায়।
এর আগে রোববার রাজধানী ঢাকার গাজিপুর কোনাবাড়ির ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়।
মৃত গৃহবধু চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে আলফেস আলীর মেয়ে আফরোজার(১৮) সাথে বিয়ে হয় চলবলা নিথক গ্রামের দীন ইসলামের(২৪)। বিয়ের পর কাজের সুবাদে রাজধানী ঢাকার গাজিপুর কোনাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন আফরোজা দীন ইসলাম দম্পত্তি। বিয়ের পর থেকে তাদের মাঝে বনিবনা হত না। প্রায় সময় সাংসারিক কলহ নিয়ে আফরোজার উপর শারীরিক নির্যাতন চালাত স্বামী দীন ইসলাম। এরই মাঝে ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা হন আফরোজা বেগম।
সর্বশেষ গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের বর্ননা দিয়ে বলেন, "আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।" এ কথা বলার পরই ফোন কেটে যায়। এর কিছুক্ষন পরে স্বামী দীন ইসলাম শ্বশুরকে ফোনে জানায় আফরোজা অসুস্থ্য তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান তার চিকিৎসা করাতে হবে।
টাকা পাঠানো বিলম্ব হলে তারা জানায় আফরোজা মারা গেছে। সোমবার সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে গাজিপুর থেকে তার রক্তাক্ত লাশ দীন ইসলামের বাড়ির উঠানে ফেলে সবাই বাড়ি থেকে ছটকে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে অপরিচিত একটি লাশবাহী গাড়িতে আফরোজার রক্তাক্ত লাশ টেনে হেছড়ে উঠানে ফেলে গাড়িটি চলে যায়। তার লাশের সাথে স্বামী বা তার বাড়ির লোকজন ছিল না। লাশের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ণ। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
নিহত চাচাত বোন শাপলা বেগম বলেন, গাজিপুরের বাসায় আফরোজাকে তার স্বামী দীন ইসলাম কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আঘাত করেনি। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা দাবি করেছিল। আমরা দেইনি তাই তারা লাশ এনে বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়েছে। হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, আমরা লাশের সাথে পাঠানো ঢাকা উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করছি, সে কাগজে দাবি করা হয়েছে বিষপানে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ণ দেকে আমরা গভির তদন্ত করছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


