শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম
expand
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে করে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বহু মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ মিটার, যা বিপৎসীমার চেয়ে ১ সেন্টিমিটার বেশি।

স্বাভাবিক বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হিসেবে ধরা হয়। এর আগে দুপুর ১২টায় পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচে। অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ৯ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ি ঢল নেমে আসা ও ভারী বর্ষণের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

এতে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং নদীভাঙনের আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।

তিস্তা ব্যারাজ এলাকা থেকে জানা গেছে, বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি চরাঞ্চল এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারীর চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চলের এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিস্তা ব্যারাজের পানির পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, “সকাল থেকেই তিস্তা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।”

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যদি পানি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে দুর্গত এলাকাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন