মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিসে আসেন সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন

রামগতি(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস কিন্তু লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন কার্যালয়ে বসেন মাত্র দুই দিন এমন অভিযোগ সেবাপ্রত্যাশীদের। তাদের দাবি, সপ্তাহের বাকি তিন দিন কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় না। এতে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষকে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে।

তবে সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন সপ্তাহে দুই দিন কার্যালয়ে বসার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, বাকি তিন দিন তিনি অফিসের অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিন সাব রেজিষ্ট্রোর অফিসে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সাব রেজিষ্ট্রারের অফিসের পাশের কক্ষে বসা মোহরার (নথি রক্ষক) জল্পনা রানী দাস ও রুনু প্রভা দাস। তারা বলেন, স্যার সপ্তাহে ২ দিন অফিস করেন। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার তিনি অফিসে আসেন। তাদের ভাষ্য, অন্য সময় তিনি কখনো লক্ষ্মীপুরে, কখনো চট্টগ্রামে থাকেন। তারা সেবাপ্রত্যাশীদের সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরে আসতে বলেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন সেবাপ্রত্যাশী ইলিয়াস ও আতরের জামান। তারা বলেন, জমি কেনাবেচার দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে তারা কার্যালয়ে এসেছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তাদের কাজ আটকে আছে। ইলিয়াস বলেন, ‘তিন দিন ধরে কার্যালয়ে আসছি। প্রতিবারই শুনছি, স্যার নেই। কাজ না করেই ফিরে যেতে হচ্ছে।’

আতরের জামান বলেন, কর্মকর্তা না থাকলে দলিল নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে দলিল করতে না পারলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরেক সেবাপ্রত্যাশী ইসমাইল হোসেন জানান, ‘কত দিন এভাবে আসব? অফিসে এলেই শুনি রেজিস্ট্রার নেই। দলিল হবে না। মানুষের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই?’

সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, কর্মকর্তা কখন কার্যালয়ে থাকবেন, তা নিশ্চিত না হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষকে অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি অর্থও অপচয় হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন দলিল লেখক বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার নিজের সুবিধামতো কার্যালয়ে আসেন। তাদের দাবি, তিনি সপ্তাহে যে দুই দিন কার্যালয়ে বসেন, ওই দুই দিনে দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়।

এই দলিল লেখকদের অভিযোগ, প্রতিটি দলিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার দুই হাজার টাকা করে নেন। দলিলে কোনো জটিলতা থাকলে টাকার পরিমাণ আরও বাড়ে বলেও তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। প্রথমে তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানোর পর রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি ফোনে কথা বলেন।

ধীমান সেন বলেন, তিনি সপ্তাহে দুই দিন কার্যালয়ে বসেন। বাকি তিন দিন অফিসের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।

সপ্তাহে দুই দিন সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘আমার জানামতে তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

লক্ষ্মীপুর জেলা রেজিস্ট্রার নীরদ বরণ বিশ্বাস বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক। তিনি কেন নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি কার্যালয়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank