

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতারপ্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ছয় দিন অনশন করার পর গতরাতে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার বলে জানা গেছে। সে এর আগে নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছে। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া রাহেনা আক্তার গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।
রাহেনার দাবি, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।
অনশনের সময় তিনি ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভিডিও বার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেফতার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এর আগে ইমন হোসেনের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছুদিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।
ইমনের মা বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিলো। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিলো তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিলো তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন।
সবশেষ কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ছয় দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছে এবং ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


