শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস কাউন্টার দখল নিয়ে যুবদলের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০২:১৮ পিএম
expand
বাস কাউন্টার দখল নিয়ে যুবদলের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুর শহরে বাস কাউন্টার নিয়ন্ত্রণের জেরে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের এ ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে শহরের ঝুমুর ও মটকা মসজিদ এলাকায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তারেক ও জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে আছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম রুটের দুটি বাস পরিবহন সংস্থা—শাহী ও জোনাকী—এর টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যার পর উত্তেজনা শুরু হয়।

‘শাহী’ পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা তারেকের সঙ্গে ‘জোনাকী’ কাউন্টারের পক্ষের জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের কথাকাটাকাটি হয়।

সন্ধ্যার পর দুই পক্ষ সমর্থকদের নিয়ে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শুভ, রাকিব, ফরহাদ, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদের, মিজান মোল্লা, দিপু, রাফি, রাতুল, শিপু, নাঈম হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন।

এদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি আহতদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল জানান, রাতে ১৯ জন আহত ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলীম হুমায়ূন এবং সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হাসান লিংকন।

তারা জানান, তারেক ও জাহাঙ্গীর দুজনই ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং দলীয় কমিটি স্থগিত থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জেলা সভাপতি হুমায়ূন বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সময় সদর মডেল থানা থেকে পুলিশ গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি আব্দুল মোন্নাফ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংঘর্ষ শুধু দুই যুবদল কর্মীর বিরোধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন