

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স। অথচ সেই অ্যাম্বুলেন্সটিও গত প্রায় দুই বছর ধরে স্থায়ী চালক ছাড়াই চলছে। মাস্টার রোলে নিয়োজিত একজন চালকের ওপর নির্ভর করে সীমিত পরিসরে সেবা চালু থাকলেও জরুরি মুহূর্তে অনেক রোগী সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া অনেকটাই ভাগ্যের বিষয়। অনেক সময় ফোন করেও সাড়া মেলে না। ফলে রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হয়। উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মনজুর হোসাইন বলেন, “আজ পর্যন্ত কোনো দিন ফোন করে রামগঞ্জ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। অনেক সময় ফোনও ধরে না।”
পৌরসভার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। অনেক চেষ্টা করেও হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, “আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ সরকারের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়োগ হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ হলে আমরাও চালক পাব।”
রোগীদের জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চালক সংকটের কারণে এ ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই অপারগ।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জনসংখ্যার তুলনায় একটি অ্যাম্বুলেন্সই যথেষ্ট নয়। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী চালক না থাকায় সরকারি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী চালক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।