

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান তেল ডিপো যমুনা অয়েল কোম্পানী লিঃ ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ এর বার্জ দুটি প্রায় ৮ বছর ধরে তেল শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে এলাকার কৃষি খাতে সেচ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ইরি বোরো চাষ ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখাও দিয়েছে। ডিলাররা পার্বতীপুর/রংপুর ডিপো থেকে তেল নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকও ডিজেল চালিত পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত মূল্যে তেল কিনে জমিতে সেচ দিচ্ছে ।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চিলমারীতে মেঘনা ও যমুনা কোম্পানীর দু’টি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপিত হয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ করে আসছে। ডিপো দু’টির অনুমোদিত ২২জন ডিলার সরকারীভাবে প্রদত্ত দরে জ্বালানী তেল ক্রয় করে এসব এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করত। ২০১৮ সালে ৮ জানুয়ারি তারিখে যমুনা অয়েল কোম্পানী লিঃ ও ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর তেল শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮ বছর ধরে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার তাল-বাহানা করে ডিপো দু’টিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখে।
এদিকে ভাসমান তেল ডিপো দু’টি থেকে চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা,দাদভাঙ্গা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানী. পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচ্ মৌসুমে তেল সরবরাহ করে থাকে। এ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, ড্রেজার মেশিন, জমি চাষের ট্রাক্টর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালিত জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ী, নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালনার জন্য প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি কাইম ও চরাঞ্চলে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে জমি চাষ এবং সেচ মিলে প্রতিদিন প্রায় ৩০হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, রংপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ার কারনে বেশি মূল্যে বিক্রয় করতে হচ্ছে।দ্রুত ডিপো চালু করলে আমরা ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারতাম।
কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ভাসমান তেল ডিপো থেকে তেল ক্রয়ে সাশ্রয় হতো, ডিপোতে তেল না থাকায় অতিরিক্ত দামে বাজার থেকে তেল কিনে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ ট্যাংক-লড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হক জানান, ডিপোটি স্থায়ী করণের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক বরাবার ডিপোটি তেল সরবরাহের জন্য চিঠি প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগামী ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতে বড় ধরনের জ্বালানী তেলের সংকটের মুখে পড়ার আশংখা রয়েছে।
যমুনা অয়েল কোম্পানী লিঃ এর ডিপো ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাসমান ডিপোটি স্থায়ীকরণের জন্য বিপিসি’র একটি টিম গত ২ বছর আগে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন।
মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাসের কারণে তেল ভর্তি জাহাজ আসতে পারেনা, ফলে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খোলা বাজারের বিক্রেতারা তা মানেন না।
মন্তব্য করুন
