

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাত্র ৩দিন বয়সী নবজাতককে অক্সিজেন সাপোর্ট না দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক রত্ন বিকাশ চাকমা। এ নিয়ে গুরতর অভিযোগ নবজাতকের পরিবারের।
নবজাতকের বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা তিনটায় উপজেলার ভাসান্যদম ইউনিয়নের ঘনমোড় শীলকাটা ছড়া এলাকা থেকে নবজাতকের অবস্থা অবনতি দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা দেখে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরে এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়েই চলে গড়িমসি। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১৪শ টাকা হলেও, দুই হাজার টাকা দাবি করেন চালক। অসহায় বাবা ১৫শ টাকা দিতে রাজি হন। তখন থেকে পথিমধ্যে তাদের নানা ধরণের খারাপ আচরণ। ভাঙ্গা সড়ক দেখেও গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো সড়কে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। এসব জানতে চাইলে চালক আরও বেশি খারাপ আচরণ করেন।
নবজাতকের বাবা আরো জানান, যখন খাগড়াছড়ি পৌঁছি তখন একটি প্রাইভেট হাসপাতালের পাশে গাড়ি থামিয়ে সাথে সাথে তিনি বাচ্চার মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলেন। আমরা কোথায় যাবো, কি করবো ভাবতে না ভাবতে আমার শিশুর অক্সিজেনের অভাবে গাড়িতেই ৫-১০ মিনিটের মধ্যে মারা যায়। পরে চালক ১৫শ টাকা ভাড়া নিয়ে, সন্তানকে আমার কাছে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে আসেন।
মৃত বাচ্চা নিয়ে পরে আমরা মাহিন্দ্র দিয়ে আবার লংগদু ফিরে আসি। আমার শিশু সন্তান হত্যার বিচার চাই। আমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, তা আর কারো সাথে যেন না হয়। দ্রুত চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান মৃতের পরিবার।
রত্ন বিকাশ চাকমা আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেন। তবে আমি বকশিস হিসেবে কিছু বাড়তি টাকার দাবি করেছি। এছাড়া খারাপ আচরণ সহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
লংগদু সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নিশাত জাহান নওরীন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাঙামাটি সদরে ট্রেনিংয়ে আছেন। আমরা ঘটনাটি শুনেছি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিন্নাত আলমের সাথে কথা বলেছি। তিনি আসলে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
মন্তব্য করুন