

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে এক নারীকে ঘিরে দুই পুরুষের স্বামী দাবি নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি থানা চত্বর থেকে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ঘটনা দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় এবং শহরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর কোতোয়ালি থানা চত্বরে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারী দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে সীমা অধিকারীর সঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি সীমা অধিকারী স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শুধু তাই নয়, সীমা অধিকারী ভারত গিয়ে পলাশ কুন্ডুকে বিয়ে করেন বলেও জানা যায়।
গত সোমবার রাতে সীমা ও পলাশ যশোরে এসে একটি হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিকাশ অধিকারী সেখানে গিয়ে তাঁদের দেখা পান। এরপরই শুরু হয় উত্তেজনা, যা পরে থানা পর্যন্ত গড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরে সীমা, বিকাশ ও পলাশ তিনজনই কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হন। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
দ্বিতীয় স্বামী দাবি করা পলাশ কুন্ডু বলেন, তিনি ও সীমা দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। দুজনই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসাথে সংসার করতে চান। তাঁর অভিযোগ, বিকাশ অধিকারী এ সম্পর্কের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
অন্য দিকে সীমা অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, বিকাশের সংসারে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। সেই কারণেই তিনি স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছেন। সীমা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না।
প্রথম স্বামী বিকাশ অধিকারী দাবি করেন, সীমার পরকীয়ার কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের সংসার ভেঙে যাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে তিনি সীমাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ৯৯৯-এ ফোন কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এক নারীকে ঘিরে দুই পুরুষের এ টানাহেঁচড়ার ঘটনা শহরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে “অস্বাভাবিক” ও “বিচিত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকে বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া সমাজে বিরল ঘটনা।
মন্তব্য করুন
