রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের তিনদিন পর মেঝের গর্তে মিললো মরিয়মের লাশ, আটক ২ 

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিনদিন পর শিক্ষার্থী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১২ টার পর উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর এলাকার জামিনুর এর বসত ঘরের মাটির নিচ থেকে শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে মডেল থানা পুলিশ। নিহত মরিয়ম, ৪১ নং সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে শিক্ষার্থী মরিয়ম প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার নিজবাড়ী চর লোটাবর থেকে সকালে বের হয় এবং সাড়ে ৮ টার মধ্যে স্কুলে পৌঁছে। স্কুল খোলা না পেয়ে বারান্দায় বসে থাকে। স্কুল খোলার আগেই নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম। এরপর থেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীসহ অনেক খোঁজাখুঁজি করে ও না পাওয়ার ৩ দিন পর ওই এলাকার জামিনুর এর বসত ঘরের মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত মরিয়মের বাবা বাহাদুর মন্ডল বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

এ ঘটনায় চর লোটাবর এলাকার অভিযুক্ত জামিনুর (৩২), স্ত্রী সবুজা বেগম (২৫) কে আটক করে পুলিশ। আটক জামিনুর ও তার স্ত্রী কে জামালপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয় এবং নিহত মরিয়ম এর মরদেহ জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত মরিয়মের মামা শামছুল হক জানান আমার ভাগ্নি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যে স্কুলে যায়। বৃহস্পতিবারে গিয়ে স্কুল খোলা পায়নি স্থানীয় এক পথচারী বলেছে সিড়ির উপর বসে ছিল। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। দুদিন পর আমাদের গোয়াল ঘরে অগ্নিকান্ডে ১ টি গরু ও ৪ টি ছাগল পুড়ে মারা গেল। ঠিক ৩ দিন পর চর লোটাবর এলাকার জামিনুর এর বসত ঘরের মাটির নিচ থেকে ভাগ্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার ভাগ্নির হত্যাকারী'র ফাঁসি চাই।

নিহত মরিয়মের মা ববিতা বেগম জানান মেয়েটা স্কুলে যাওয়ার পর আমার কেমন জানি ভালো লাগছিল না ৯ টার পর স্কুলে গিয়ে দেখি মেয়ে নাই। স্কুলের আশ পাশেও খোঁজ খবর নেওয়া হয় হারানোর ৩ দিন পর মেয়ের লাশ আমার শয্য হচ্ছে না। ঘাতক জামিনুরের ফাঁসি চাই।

প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত শাহিনা আক্তার জানান আমি ৯ টার কয়েক মিনিট আগে স্কুলে আসি তখন মরিয়ম কে স্কুলে পায়নি। সকাল ৯ টার পর তার মা এসে বলে মরিয়ম কোথায় আমি বললাম স্কুলে তো আসেনি। নিখোঁজের ৩ দিন পর স্কুলের সামনে জামিনুর এর ঘরে মাটির নিচ থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ মর্মাহত এবং মরিয়ম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন শিক্ষার্থী মরিয়মের মরদেহ ঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং চিৎকার করলে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank