

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাত গ্রামের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টায় কদুপুর বাজারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাত গ্রামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, সাতটি গ্রাম থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি এবং একজন সভাপতি নিয়ে মোট ১৫ সদস্যের একটি শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ভবিষ্যতে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তফা আল হাদী, ৭নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মামন, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু ফজল, ৭নং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জুবায়ের, সহ-সভাপতি ময়না মিয়া, সদস্য আব্দুর রব মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক শাহীন, সেকুল মাস্টার, মাওলানা নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল বিভিন্ন স্থানে এ সমাবেশকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তবে তারা স্পষ্ট করেন, এটি কেবলই সংঘর্ষ পরবর্তী শান্তি ও সমাধানের উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সময় কোনো মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে প্যানেল চেয়ারম্যান কপিল এতে আপত্তি জানান এ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় তাকে ইউপি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং সরকারি বরাদ্দের ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে শেষে বক্তারা সবাইকে শান্তি, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।